স্বপ্নের ঢালি কৃষকের চোখেআম গাছে গাছে মুকুলের সমারোহে বাতাসে ভাসছে মন মাতানো ঘ্রাণ


এম মাহফুজ আলম

Published: 2018-02-25 10:58:17 BdST | Updated: 2018-10-16 18:02:18 BdST

পাবনা অফিস :: পাবনা ও নাটোর অঞ্চলে সমস্ত আম গাছে মুকুলের সমারোহ। বাতাসে ভাসছে মুকুলের মন মাতানো ঘ্রাণ। মৌ মৌ গন্ধে মৌমাছির গুনগুন শব্দে মুখরিত আম বাগান।

কবির ভাষায় বলতে গেলে-ঝড়ের দিনে মামার দেশে, আম কুড়াতে সুখ, পাকা জামের মধুর রসে, রঙিন করি মুখ। পল্লীকবি জসীম উদ্দিনের ‘মামার বাড়ি’ কবিতার পঙ্গোক্তিগুলো বাস্তব রূপ পেতে বাকি রয়েছে আর কিছুদিন। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পাবনা ও নাটোর অঞ্চলে সমস্ত আম গাছের বাগানগুলোতে মুকুলের সমারোহ দেখা যাচ্ছে। চাষীরা এবার বাম্পার ফলন হওয়ার আশা করছে। সুখের ঘ্রাণ বইতে শুরু করেছে। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে এ মুকুলের ঘ্রাণ। ফাল্গুনি হাওয়ায় থোকায় থোকায় দুলছে আমের মুকুল। শীতের শেষে আম গাছের কচি ডগা ভেদ করে সবুজ পাতার ফাঁকে হলদেটে মুকুল গুচ্ছ যেনো উঁকি দিয়ে হাসছে। বাগানের সুনসান নীরবতা চিরে একটানা গান শোনাচ্ছে মৌমাছি। মুকুলের মৌ মৌ গন্ধে মৌমাছির গুনগুন শব্দে মুখরিত আম বাগান। যে গন্ধ মানুষের মন ও প্রাণকে বিমোহিত করে তুলেছে। শহর কিংবা গ্রামে সর্বত্র আমগাছ তার মুকুল নিয়ে হলদে রঙ ধারণ করে সেজেছে এক অপরূপ সাজে। কয়েক দিনের মধ্যে আমের মুকুল পরিণত হবে এক পরিপূর্ণ দানায়। আমের মুকুলে কৃষকের আগামীর স্বপ্ন দোল খাচ্ছে। সেই সোনালি স্বপ্নকে বুকে ধারণ করেই বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত পাবনা ও নাটোর আম বাগান চাষিরা।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, পাবনার আওতাপাড়া, সলিমপুর, কাশিপুর, টেবুনিয়া, আটঘরিয়া, নাটোর সদর ও নলডাঙ্গা উপজেলার নলডাঙ্গা, বাসুদেবপর, খাজুরা, পিপরুল, মাধনগর ও ব্রক্ষপুর এলাকার সমস্ত আম গাছে এবার ব্যাপক মুকুল এসেছে। সোনাপাতিল গ্রামের আম চাষী পিন্টু জানান, যদি ভালভাবে আম জন্মাতে পারে আর আমগুলো যদি মোটামোটি বড় হওয়ার আগ পর্যন্ত এবার বৈরী আবহওয়ায় না হয় তাহলে বাম্পার ফলনে লক্ষ্যমাত্রা ছড়িয়ে যাবে।

তবে এখন আম চাষীরা পোকা মাকড়ের প্রাদুর্ভাবের হাত থেকে রক্ষা পেতে বালাইনাশক ব্যবহার করে আমের মুকুল পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাঠাচ্ছে।

পাবনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, গত বছর অর্থাৎ ২০১৬-১৭ অর্থবছরে জেলাতে ২৩ হাজার ৮০ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছিলো। যেখান থেকে আম উৎপাদন হয় ২৯ হাজার ৭৫০ মে.টন। এ বছর আমের আবাদ হয়েছে ২৪ হাজার ৬৫ হেক্টর জমিতে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ৩১ হাজার মে. টন। গত বছরের তুলনায় এ বছর ৯৮৫ হেক্টর জমিতে বেশি আমের আবাদ হয়েছে। জেলাতে আ¤্রপালি, লেংড়া, ফজলি, হাড়িভাঙা, মল্লিকা, থাই, গোপালভোগ, বারি ১০, দেশী, বেনারসি সিতাভোগ ইত্যাদি জাতের আম চাষ হয়েছে। এর মধ্যে সিংহভাগই আ¤্রপালি।

এ বিষয়ে কথা হয় পাবনা সদর উপজেলার টেবুনিয়া-রানিগ্রামের আম চাষী মুক্তাদির রশীদের সাথে। তিনি বলেন, এবছর আমার আম গাছে প্রচুর পরিমাণে মুকুল এসেছে। এখন পর্যন্ত আমের মুকুলে কোনো রোগ-বালাই আক্রমণ করেনি। আবহাওয়াও ভালো। যদি কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না আসে আশা করছি প্রতিটি আম গাছেই পর্যাপ্ত পরিমাণে আম ধরবে। এলাকাতে ফসলি চাষের জমি রেখে অনেকেই আম বাগান করেছে। ভজেন্দ্রপুর এলাকার আম চাষী সোলাইমান হোসেন জানান, মূলত আমগাছের পরিচর্যা শুরু হয় আম শেষ হওয়ার সাথে সাথে। গাছের পুরাতন বোটা ভেঙে ফেলা। বাগানে চাষ সেচ দেয়া। পাতা পরিষ্কার রাখা। মুকুল আসার আগে এবং পরে ওষুধ স্প্রে করা হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক বিভূতি ভুষন সরকার বলেন, জেলায় এ বছর আমের উৎপাদন ভালো হবে। কারণ এ বছর আমের মুকুল ধরার সময় প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ এখন পর্যন্ত দেখা দেয়নি। এমনকি তেমন কোনো রোগ-বালাইও হয়নি। অন্যান্য বছরের তুলনায় বাড়তি সতর্কতাও আছে আমাদের। যদি প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না হয় তাহলে কৃষকরা বাম্পার ফলন পাবেন বলে তিনি মনে করেন। তিনি আরও বলেন, আম চাষে সহজেই লাভবান হওয়া যায়। যার কারণে অনেকই এ পেশায় এগিয়ে আসছেন। বর্তমানে জেলাতে আবাদি জমিতে আমের চাষ করা হচ্ছে। আমরা চাষে কৃষকদের বিভিন্ন সময়ে পরামর্শ দিচ্ছি। আমাদের মাঠ পর্যায়ে অফিসাররা কাজ করছেন।

কৃষি অধিদফতরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মোঃ লোকমান হোসেন বলেন, আবহওয়া অনুকূলে থাকায় এবং পোকা মাকড়ের প্রাদুর্ভাব কম থাকায় এখন পর্যন্ত মুকুলে

কোন ক্ষতি হয়নি। তবে মুকুলে ফুল ফোটার আগে ইমিডাক্লোত্রিড অথবা সাইপারমেথ্রিন গ্রুপের কীটনাশক এবং ম্যানকোজের জাতীয় ছত্রাকনাশক অনুমোদিত মাত্রায় ¯েপ্র করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। আর আমের গুটি মটরদানা আকৃতি হলে এ অবস্থায় কার্বারিল গ্রুপের কীটনাশক এবং ম্যানকোজের জাতীয় ছত্রাকনাশক অনুমোদিত মাত্রায় ¯েপ্র করতে হবে। সেই সাথে আমের আকার বৃদ্ধির জন্য গানোফিক্স অথবা লিটোরেন জাতীয় গ্রোথ রেগুলেটার নিয়মনুযায়ী পানির সাথে মিশিয়ে গাছে ¯েপ্র করতে হবে। এ সময় আম গাছের চারায় পানি সেচ দিতে হবে। আর বেশি রোদ্রের সময় কীটনাশক ¯েপ্র না করার পরামর্শ চাষীদের। এভাবে আবহওয়া ভাল থাকলে ও পরামর্শ গুলো মেনে চললে এবার আমের বাম্পার ফলন হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


সারাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত


পাবনা ও নাটোর অঞ্চলে সমস্ত আম গাছে মুকুলের সমারোহ। বাতাসে ভাসছে মুকুলে...

সারাদেশ | 2018-02-25 10:58:17

মিনারের উচ্চতা ৪৫১ ফুট (১৩৮ মিটার), যা ৫৭ তলা ভবনের সমান। গম্বুজ থাকছে...

সারাদেশ | 2018-01-22 14:08:26

টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলা শহর থেকে সাত কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত একটি...

সারাদেশ | 2018-02-03 12:48:34

মিয়ানমার থেকে নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি সে দেশ থেকে আসছে ইয়াবাও।...

সারাদেশ | 2017-09-28 08:00:25

ভারতে পাচারকালে বেনাপোলের ঘিবা সীমান্ত থেকে আজ সকালে ১৮ পিচ সোনার বারস...

সারাদেশ | 2017-10-17 06:38:18

মাগুরার শালিখা উপজেলার গজদূর্বা গ্রামে গতকাল বৃহস্পতিবার আধিপত্য বিস্...

সারাদেশ | 2017-11-02 13:26:49

বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের জলসীমায় ঢুকে ভারতীয় জেলেরা ইলিশ ধরে নিয়ে যাচ্ছে...

সারাদেশ | 2017-10-01 07:25:54

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার থাইংখালীতে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের উদ্যোগে স্থা...

সারাদেশ | 2017-10-09 13:42:44