হজ্জের প্রয়োজনীয় নিয়ম-কানুন ও আমল (পার্ট-১)


ড. মো: হাবিবুর রহমান

Published: 2018-07-25 19:16:14 BdST | Updated: 2018-11-15 21:13:37 BdST

(পার্ট-১)

ইসলামের ৫টি স্তম্ভের মধ্যে হজ্জ হচ্ছে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। আল-হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, بُنِيَ الإِسْلاَمُ عَلَى خَمْسٍ شَهَادَةِ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللهِ ، وَإِقَامِ الصَّلاَةِ ، وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ وَالْحَجِّ ، وَصَوْمِ رَمَضَانَ “ইসলামের স্তম্ভ হচ্ছে পাঁচটি ১. এই কথার স্বাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই এবং হযরত মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর রাসূল, ২. নামায কায়েম করা, ৩. যাকাত প্রদান করা, ৪. হজ্জ পালন করা এবং ৫. রমজান মাসে রোযা রাখা। (সহীহ আল-বুখারী) যারা বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করতে যাবেন তাদের জন্য হজ্জের নিয়ম-কানুন, বিধি-বিধানগুলো জানা ও মেনে চলা জরুরী। আলোচ্য প্রবন্ধে হজ্জ ও উমরা পালনকারীদের জন্য প্রয়োজনীয় নিয়ম-কানুন ও আমলসমূহ তুলে ধরা হলোঃ

হজ্জ ও উমরার পরিচিতি :
হজ্জ: হজ্জ ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম। হজ্জের আভিধানিক অর্থ হলো সংকল্প বা ইচ্ছা করা। ইসলামী শরিয়াতের পরিভাষায় শরীয়তের যথাযথ বিধান অনুযায়ী কা‘বা শরীফের যিয়ারতের উদ্দেশ্যে গমন করে কুরআন-হাদীস নির্ধারিত ইবাদত পালন করাকে হজ্জ বলা হয়।
উমরা: উমরা (العمرة) এর আভিধানিক অর্থ সাক্ষাৎ, সফর, পরিদর্শন ইত্যাদি। পরিভাষায়, কা‘বা ঘরের ত্বওয়াফ এবং ছাফা-মারওয়ায় সা‘ঈ করার উদ্দেশ্যে কা‘বা ঘরের সাক্ষাৎকে ‘উমরা’ বলে।

হজ্জ ফরজ হওয়ার শর্ত :
(১) স্বাস্থ্যবান মুসলমান,
(২) প্রাপ্ত-বয়স্ক বুদ্ধিমান,
(৩) সংসার পরিচালনার পর হজ্জে যাওয়ার মত আর্থিক সংগতি,
(৪) রাস্তার নিরাপত্তা,
(৫) স্ত্রীলোকের জন্যে মাহরাম (যাদের সঙ্গে বিবাহ অবৈধ) সঙ্গী।

হজ্জ ৩ প্রকার :
(ক) হজ্জে তামাত্তু :
হাজীগণ মীক্বাত হতে (“লাব্বাইকা উমরাতান” ওয়া হাজ্জান) বলে হজ্জ ও উমরাহ পালনের নিয়্যতে ইহরাম বেধে প্রথমে উমরা পালন শেষ করে পরবর্তীতে হজ্জের ইহরাম বেধে হজ্জ পালন করাকে ‘তামাত্তু’ বলে। যে ব্যক্তি কুরবানীর পশু নিয়ে যায়নি, তার জন্য ‘তামাত্তু’ হজ্জ করা ভাল। হজ্জের মাসগুলোতে উমরাহ করার জন্য ‘মীক্বাত’ থেকে ইহরাম বাধবেন। তারপর তাওয়াফ, সাফা-মারওয়া সায়ী ও মাথা মু-ন করে সম্পূর্ন হালাল হয়ে যাবেন।
জিলহজ্জ মাসের ৮ তারিখে তিনি যেখানে অবস্থান করবেন সেখান থেকেই হজ্জের ইহরাম বেধে হজ্জ পালনের নির্দিষ্ট স্থানগুলোতে যেয়ে হজ্জের সকল কাজ সমাপ্ত করবেন। ‘তামাত্তু’ হজ্জ পালনকারীকে শুকরিয়া স্বরূপ কুরবানী করা ওয়াজিব। তিনি যদি কুরবানী দিতে সক্ষম না হন, তাহলে হজ্জের সময় ৩দিন ও দেশে ফিরে ৭দিন (মোট ১০ দিন) রোজা রাখবেন।

(খ) হজ্জে কিরান :
হাজীগণ ‘মীকাত’ থেকে (“লাব্বাইকা উমরাতান ওয়া হাজ্জান”) বলে একসাথে একই পোশাকে এক সাথে হজ্জ/উমরাহ পালনের জন্য ইহরাম বাধবেন। যখন তিনি মক্কা পৌছবেন, তখন ‘তাওয়াফে কুদুম’ (আগমনী তাওয়াফ) এবং হজ্জ/উমরার জন্য সাফা-মারওয়া সায়ী করে, হালাল না হয়ে, ইহরাম অবস্থায় অব্যহত থেকে জিলহজ্জ মাসের ৮তারিখে হজ্জ পালনের নির্দিষ্ট স্থান সমূহে গমন করে হজ্জের অবশিষ্ট কাজগুলো শেষ করবেন। অর্থাৎ ২টি জিনিস হজ্জ ও উমরা একসাথে আদায় করবেন। তবে তিনি সাফা-মারওয়া ‘সাঈ’ করবেন না। কারন তিনি ‘তাওয়াফে কুদুমের’ পরে ‘সায়ী’ করেছেন। ‘হজ্জে কিরান’কারীকে ‘হাদী’(কুরবানী) দেওয়া ওয়াজিব। ‘হাদী’ দিতে না পারলে আগের মত ১০ দিন রোজা রাখবেন।

(গ) হজ্জে ইফরাদ :
মিকাত থেকে হাজীগণ “আল্লাহুমা লাব্বাইক হাজ্জান” বলে, শুধু হজ্জের ইহরাম বাধবেন। তারপর মক্কা পৌছেই, তাওয়াফ/সাঈ করে, হজ্জের বাকী কাজ শেষ না করা পর্য্যন্ত ইহরাম অবস্থায় থাকবেন। ‘হজ্জে ইফরাদ’ কারীকে ‘হাদী’ দিতে হবেনা। কেননা তিনি হজ্জ/ওমরার মাঝে ‘জমা’ করেন নাই।

হজ্জ ও উমরা ওয়াজিব হওয়ার শর্তাবলী :
প্রত্যেকটি মুসলিম, বোধশক্তি সম্পন্ন, প্রাপ্ত বয়স্ক, স্বাধীন এবং সামর্থ্যবান ব্যক্তির উপর হজ্জ ও উমরা ফরয। মহিলাদের ক্ষেত্রে তাদের সাথে মাহরাম পুরুষ থাকতে হবে। অতএব, ইসলাম গ্রহণের পূর্বে কোন কাফেরের জন্য হজ্জ এবং উমরা নেই অনুরূপভাবে কোনো পাগলও হজ্জ ও উমরার নির্দেশের আওতাভুক্ত নয়। রাসূল (সা.) বলেন,
رُفِعَ الْقَلَمُ عَنْ ثَلاَثَةٍ عَنِ النَّائِمِ حَتَّى يَسْتَيْقِظَ وَعَنِ الصَّبِىِّ حَتَّى يَحْتَلِمَ وَعَنِ الْمَجْنُونِ حَتَّى يَعْقِلَ
অর্থ : তিন শ্রেণীর ব্যক্তির উপর থেকে কলম উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে: ঘুমন্ত ব্যক্তি ঘুম থেকে জাগ্রত না হওয়া পর্যন্ত, অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে-মেয়ে প্রাপ্ত বয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত এবং পাগল বিবেক-বুদ্ধি ফিরে না পাওয়া পর্যন্ত। (সূনান আবূ দাঊদ)
অনুরূপভাবে অপ্রাপ্ত বয়স্ক বালক-বালিকা এবং দাসের উপরেও হজ্জ-উমরা ওয়াজিব নয়। তবে তারা যদি আদায় করে সাওয়াব প্রাপ্ত হবে। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন,
رَفَعَتِ امْرَأَةٌ صَبِيًّا لَهَا فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلِهَذَا حَجٌّ قَالَ نَعَمْ وَلَكِ أَجْرٌ
অর্থ : এক মহিলা তার বাচ্চাকে উঁচু করে ধরে বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! এর কি হজ্জ হবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ! আর তুমি নেকী পাবে। (সহীহ মুসলিম)

হজ্জ ও উমরার রুকন বা ফরজসমূহ :
হজ্জ ও উমরার রুকন বা ফরজ বলতে ঐ সকল আমলকে বুঝানো হয়, যেগুলো হজ্জ ও উমরায় অবশ্যই সম্পাদন করতে হবে। এবং যে আমল গুলোর স্থলাভিষিক্ত অন্য কোন আমল নেই।

উমরার রুকন বা ফরজ :
উমরার রুকন বা ফরজ ৩টি। যথা: ১. ইহরাম বাধা, ২. ত্বওয়াফ করা এবং ৩. সা‘ঈ করা।

হজ্জের রুকন বা ফরজ :
হজ্জের রুকন বা ফরজ ৩টি। যথা: ১. ইহরাম বাধা, ২. ত্বওয়াফ করা, ৩. আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা।

হজ্জ ও উমরার ওয়াজিবসমূহ :
হজ্জ ও উমরার ঐসব আমলকে ওয়াজিব বলা হয়, যেগুলো অবশ্যই পালনীয়; তবে সেগুলো পালন না করা হলে ‘দম’ (دم) দিয়ে তার ক্ষতি পূরণ দিতে হবে।

উমরার ওয়াজিব :
উমরার ওয়াজিব ২টি। ১. মীক্বাত থেকে ইহরাম বাধা এবং ২. উমরা থেকে হালাল হওয়ার সময় মাথা মু-ন করা।

হজ্জের ওয়াজিব : হজ্জের ওয়াজিব ৭টি।
১. মীক্বাত থেকে ইহরাম বাধা: মিকাত অর্থ ইহরাম বাধার স্থান। রাসূল (সা.) মীক্বাতসমূহের বর্ণনা দেওয়ার পর বলেন,
هُنَّ لَهُنَّ وَلِكُلِّ آتٍ أَتَى عَلَيْهِنَّ مِنْ غَيْرِهِمْ مِمَّنْ أَرَادَ الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ فَمَنْ كَانَ دُونَ ذَلِكَ فَمِنْ حَيْثُ أَنْشَأَ حَتَّى أَهْلُ مَكَّةَ مِنْ مَكَّةَ
অর্থ : এসব এলাকার অধিবাসীদের মধ্যে যারা হজ্জ ও উমরা করতে চায় এবং তারা ব্যতীত যারাই এসব এলাকা দিয়ে হজ্জ ও উমরা করতে আসবে, এগুলি তাদের সকলের মীক্বাত। যারা এসব এলাকার ভেতরে বসবাস করে, তারা তাদের অবস্থান থেকেই ইহরাম বাধবে; এমনকি মক্কাবাসী মক্কা থেকে। (সহীহ আল-বুখারী ও মুসলিম)
২. হজ্জ ও উমরা থেকে হালাল হওয়ার সময় মাথা মু-ন করা অথবা চুল ছেটে ফেলা: মহান আল্লাহ বলেন,
لَقَدْ صَدَقَ اللَّهُ رَسُولَهُ الرُّؤْيَا بِالْحَقِّ لَتَدْخُلُنَّ الْمَسْجِدَ الْحَرَامَ إِنْ شَاءَ اللَّهُ آمِنِينَ مُحَلِّقِينَ رُءُوسَكُمْ وَمُقَصِّرِينَ لَا تَخَافُونَ
অর্থ : আল্লাহ তাঁর রাসূলকে সত্য স্বপ্ন দেখিয়েছেন। ইনশাআল্লাহ তোমরা অবশ্যই নিরাপদে মস্তকমু-িত অবস্থায় এবং কেশ কর্তিত অবস্থায় মসজিদে হারামে প্রবেশ করবে, তোমরা কাউকে ভয় করবে না। (সূরা আল-ফাত্হ- ২৭)
অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, وَلَا تَحْلِقُوا رُءُوسَكُمْ حَتَّى يَبْلُغَ الْهَدْيُ “আর তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত মাথা মু-ন করবে না, যতক্ষণ না কুরবানী যথাস্থানে পৌঁছে যায়।” (সূরা আল-বাক্বারা- ১৯৬)
রাসূল (সা.) বলেন,
اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِلْمُحَلِّقِينَ. قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَلِلْمُقَصِّرِينَ قَالَ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِلْمُحَلِّقِينَ. قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَلِلْمُقَصِّرِينَ قَالَ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِلْمُحَلِّقِينَ. قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَلِلْمُقَصِّرِينَ قَالَ وَلِلْمُقَصِّرِينَ
অর্থ : হে আল্লাহ! আপনি মাথা মু-নকারীদেরকে ক্ষমা করুন’। ছাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুম) বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! চুল কর্তনকারীদের কি হবে? তিনি বললেন, ‘হে আল্লাহ! আপনি মাথা মু-নকারীদেরকে ক্ষমা করুন’। তাঁরা বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! চুল কর্তনকারীদের কি হবে? তিনি বললেন, ‘হে আল্লাহ! আপনি মাথা মু-নকারীদেরকে ক্ষমা করুন’। তাঁরা বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! চুল কর্তনকারীদের কি হবে? তিনি বললেন, ‘হে আল্লাহ! আপনি চুল কর্তনকারীদেরকে ক্ষমা করুন। (সহীহ আল-বুখারী ও মুসলিম)

৩. সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফার ময়দানে অবস্থান করা: যে ব্যক্তি দিনের বেলায় আরাফায় অবস্থান করবে, তার জন্য সূর্যাস্ত পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করা ওয়াজিব। জাবের (রা.) বর্ণিত হাদীছে এসেছে,
فَلَمْ يَزَلْ وَاقِفًا حَتَّى غَرَبَتِ الشَّمْسُ وَذَهَبَتِ الصُّفْرَةُ قَلِيلاً حَتَّى غَابَ الْقُرْصُ
অর্থ : রাসূল (সা.) সূর্য সম্পূর্ণরূপে অস্তমিত হওয়া পর্যন্ত (আরাফায়) অবস্থান করলেন। (সহীহ মুসলিম)

৪. মুজদালিফায় রাত্রি যাপন করা: মহান আল্লাহ বলেন, فَإِذَا أَفَضْتُمْ مِنْ عَرَفَاتٍ فَاذْكُرُوا اللَّهَ عِنْدَ الْمَشْعَرِ الْحَرَامِ “অতঃপর যখন আরাফা থেকে ফিরে আসবে, তখন মাশ‘আরে হারামের নিকটে আল্লাহ্র যিক্র কর।” (সূরা আল-বাক্বারা- ১৯৮)
এখানে মাশ‘আরে হারাম অর্থ মুজদালিফা। তাছাড়া রাসূল (সা.) নিজে সকাল পর্যন্ত মুজদালিফায় অবস্থান করেছেন। তবে তিনি দুর্বল নারী এবং বাচ্চাদেরকে শেষ রাতে মিনায় যাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন (সহীহ আল-বুখারী ও মুসলিম)

৫. জামরাহসমূহে কংকর নিক্ষেপ করা: কুরবানীর দিন সূর্য ঢলে যাওয়ার আগে বা পরে জামরাতুল আক্বাবায় এবং তাশরীক্বের দিনগুলিতে অর্থাৎ ১১, ১২ ও ১৩ তারিখে সূর্য ঢলে যাওয়ার পরে তিন জামরায় কংকর নিক্ষেপ করা। হযরত জাবের (রা.) বর্ণিত হাদীসে এসেছে, رَمَى رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- الْجَمْرَةَ يَوْمَ النَّحْرِ ضُحًى وَأَمَّا بَعْدُ فَإِذَا زَالَتِ الشَّمْسُ. “রাসূল (সা.) কুরবানীর দিন সকালে জামরাতে কংকর নিক্ষেপ করেন। তবে এর পরের দিনগুলিতে সূর্য ঢলে যাওয়ার পরে নিক্ষেপ করেন।” (সহীহ মুসলিম)
আছেম ইবনে আদি (রা.) বলেন, أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَخَّصَ لِلرُّعَاةِ فِي الْبَيْتُوتَةِ يَرْمُونَ يَوْمَ النَّحْرِ وَالْيَوْمَيْنِ اللَّذَيْنِ بَعْدَهُ يَجْمَعُونَهُمَا فِي أَحَدِهِمَا “রাসূল (সা.) কুরবানীর পশুর দায়িত্বে নিয়োজিত লোকদেরকে মিনায় রাত্রি যাপনের ক্ষেত্রে ছাড় দিতেন। ফলে তাঁরা কুরবানীর দিন কংকর মারতেন এবং তৎপরবর্তী দুই দিনের কংকর একদিনে একসঙ্গে মেরে দিতেন।” (সূনান আন-নাসা‘ঈ)

৬. বিলম্বকারীদের জন্য তাশরীক্বের তিন রাত এবং তাড়াহুড়া করে প্রস্থানকারীদের জন্য প্রথম দুই রাত মিনায় যাপন করা : মহান আল্লাহ বলেন, وَاذْكُرُوا اللَّهَ فِي أَيَّامٍ مَعْدُودَاتٍ فَمَنْ تَعَجَّلَ فِي يَوْمَيْنِ فَلَا إِثْمَ عَلَيْهِ وَمَنْ تَأَخَّرَ فَلَا إِثْمَ عَلَيْهِ لِمَنِ اتَّقَى “আর তোমরা নির্দিষ্ট কয়েকটি দিনে আল্লাহ্র যিক্র কর। অতঃপর যে ব্যক্তি প্রথম দুই দিনে তাড়াহুড়া করে চলে যাবে, তার জন্য কোন পাপ নেই। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি তাড়াহুড়া না করে থেকে যাবে, তাঁর উপর কোন পাপ নেই। অবশ্য যারা ভয় করে।” (সূরা আল-বাকারা- ২০৩)
তাছাড়া রাসূল (সা.) নিজে আইয়ামে তাশরীক্বের তিন রাতই মিনায় যাপন করেন এবং ১৩ তারিখে সূর্য ঢলে যাওয়ার পর তিন জামরায় কংকর নিক্ষেপের পর মিনা ত্যাগ করেন। রাসূল (সা.) কর্তৃক পানি পরিবেশনকারী এবং পশু দেখাশুনায় নিয়োজিত ব্যক্তিদেরকে তাশরীক্বের রাত্রিগুলি মিনায় না কাটানোর অনুমতি প্রদানই প্রমাণ করে যে, মিনায় রাত্রি যাপন ওয়াজিব। কোন কোন উলামাগণ মিনায় রাত্রি যাপনকে সুন্নত বলেছেন।

৭. বিদায়ী ত্বওয়াফ করা: রাসূল (সা.) মক্কা ত্যাগের সময় বিদায়ী ত্বওয়াফ করেছেন। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, “(মক্কায়) লোকদেরকে সর্বশেষ যে কাজটির আদেশ করা হয়েছে, তা হচ্ছে বায়তুল্লাহ্র ত্বওয়াফ। তবে ঋতুবর্তীদের ক্ষেত্রে বিধান শিথিল করা হয়েছে।”(সহীহ আল-বুখারী ও মুসলিম)
এছাড়া সাফা ও মারওয়া সা’ঈ করাও অনেকে ওয়াজিব বলেছেন যার বর্ণনা হজ্জের ফরজের বর্ণনার মধ্যে চলে এসেছে।

হজ্জের মুস্তাহাব :
হজ্জের মুস্তাহাবসমূহের মধ্যে রয়েছে-
 হজ্জ ও উমরার উদ্দেশ্যে মক্কায় আগমনকারী কর্তৃক প্রথম ত্বওয়াফে ‘রমল’ এবং ‘ইযত্বিবা’ করা।
 ত্বওয়াফের সময় হাজারে আসওয়াদ চুম্বন করা বা স্পর্শ করা অথবা ইহার দিকে ইশারা করা এবং আল্লাহু আকবার বলা।
 রুকনে ইয়ামানী স্পর্শ করা।
 ফরয, ওয়াজিব বা নফল যে কোন ত্বওয়াফের পরে দুই রাক‘আত সালাত আদায় করা এবং যমযম পানি পান করা।
 ছাফা-মারওয়া পাহাড়দ্বয়ে আরোহণ করে ক্বিবলামুখী হয়ে দো‘আ করা।
 সা‘ঈর সময় দুই সবুজ বাতির মাঝখানে রমল করা বা জোরে চলা।
 তালবিয়ার দিনে অর্থাৎ ৮ তারিখে মিনায় অবস্থান করা।
 জামারায় কংকর নিক্ষেপের সময় তাকবীর দেওয়া।
 প্রথম এবং দ্বিতীয় জামরায় কংকর নিক্ষেপের পর হাত তুলে দো‘আ করা। ইত্যাদি।

ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ কাজসমূহ :
হজ্জের ইহরাম বাধার পর যে বিষয়গুলি হারাম হয়ে যায়, সেগুলিকে ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ কাজ বলে। আর সেগুলি হচ্ছে ৯টি।
১. পশম উঠানো: মাথার চুল, গোঁফ, নাভীর নীচের লোম, বগলের লোম বা শরীরের যে কোনো স্থানের পশম উঠানো। মহান আল্লাহ বলেন, وَلَا تَحْلِقُوا رُءُوسَكُمْ حَتَّى يَبْلُغَ الْهَدْيُ مَحِلَّهُ فَمَنْ كَانَ مِنْكُمْ مَرِيضًا أَوْ بِهِ أَذًى مِنْ رَأْسِهِ فَفِدْيَةٌ مِنْ صِيَامٍ أَوْ صَدَقَةٍ أَوْ نُسُكٍ “আর তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত মাথা মুন্ডন করবে না, যতক্ষণ না কুরবানীর পশু যথাস্থানে পৌঁছে যায়। তোমাদের মধ্যে যারা অসুস্থ হয়ে পড়ে কিংবা মাথায় যদি কোন কষ্ট থাকে, তাহলে তার পরিবর্তে ছওম পালন করবে কিংবা সাদাক্বা করবে অথবা কুরবানী করবে।” (সূরা আল-বাক্বারা-১৯৬)

২. নখ কাটা: ইবনুল মুনযির (রহ.) বলেন, ‘সবাই একমত পোষণ করেছে যে, মুহরিম ব্যক্তির জন্য নখ কাটা নিষিদ্ধ’ মহান আল্লাহ বলেন, ثُمَّ لْيَقْضُوا تَفَثَهُمْ “এরপর তারা যেন দৈহিক ময়লা দূর করে দেয়।” (সূরা হজ্জ- ২৯)

৩. সুগন্ধি ব্যবহার করা: মুহরিম ব্যক্তি শরীরে অথবা কাপড়ে সকল প্রকার সুগন্ধি ব্যবহার থেকে বিরত থাকবে। ইয়া‘লা ইবনে উমাইয়া (রা.) বলেন, জে‘রানাতে সুগন্ধি মিশ্রিত জুব্বা পরিহিত অবস্থায় এক বেদুঈন ব্যক্তি রাসূল (সা.) এর নিকটে এসে বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! কেউ সুগন্ধি মিশ্রিত জুব্বা পরে উমরার ইহরাম বাধেন, তার সম্পর্কে আপনার মতামত কি? তিনি বললেন,
أَمَّا الطِّيبُ الَّذِى بِكَ فَاغْسِلْهُ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ وَأَمَّا الْجُبَّةُ فَانْزِعْهَا ثُمَّ اصْنَعْ فِى عُمْرَتِكَ كَمَا تَصْنَعُ فِى حَجِّكَ
অর্থ: তোমার গায়ের সুগন্ধি তুমি তিনবার ধুয়ে ফেলো এবং তোমার জুব্বা খুলে ফেলো। অতঃপর তোমার উমরার জন্য তদ্রুপ কর, যেরূপ তুমি তোমার হজ্জের জন্য করে থাক। (সহীহ আল-বুখারী ও মুসলিম)
ইবনে ওমর (রা.) এর হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, وَلاَ تَلْبَسُوا مِنَ الثِّيَابِ شَيْئًا مَسَّهُ الزَّعْفَرَانُ وَلاَ الْوَرْسُ “তোমরা যাফরান এবং ওর্য়াস (এক প্রকার উদ্ভিদ, যাতে সুগন্ধি রয়েছে) রঞ্জিত কাপড় পরবে না।” (সহীহ আল-বুখারী ও মুসলিম)

৪. ইহরাম অবস্থায় কোন ব্যক্তি কিছু দ্বারা মাথা ও মুখম-ল ঢেকে রাখা: আল-হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, لاَ يَلْبَسُ الْقُمُصَ وَلاَ الْعَمَائِمَ “মুহরিম ব্যক্তি জামা এবং পাগড়ী কোনটাই পরবে না।” (সহীহ আল-বুখারী ও ইবনে মাজা)
ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘এক ব্যক্তি মুহরিম অবস্থায় তার উট তার ঘাড় ভেঙ্গে দিলে তিনি মারা গেলেন। অতঃপর রাসূল (সা.) বললেন,
اغْسِلُوهُ بِمَاءٍ وَسِدْرٍ، وَكَفِّنُوهُ فِى ثَوْبَيْهِ، وَلاَ تَمَسُّوهُ بِطِيبٍ، وَلاَ تُخَمِّرُوا رَأْسَهُ، فَإِنَّهُ يُبْعَثُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مُلَبِّيًا
অর্থ : তোমরা পানি এবং বরই পাতা দিয়ে তাকে গোসল করাও। ইহরামের কাপড় দু’টি দিয়েই তার কাফন সম্পন্ন কর। তার দেহে কোন সুগন্ধি লাগিও না এবং তার মাথা ঢেকো না। কেননা ক্বিয়ামতের দিন তাকে তালবিয়া পড়া অবস্থায় উঠানো হবে। (সহীহ আল-বুখারী ও মুসলিম)

৫. পুরুষ কর্তৃক সারা দেহ আবৃত করে সেলাই করা পোষাক পরা: যেমন- জামা, পায়জামা, চামড়ার মোজা, কাপড়ের মোজা, গেঞ্জী ইত্যাদি। ইবনে ওমর (রা.) বলেন, ‘এক ব্যক্তি বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! মুহরিম ব্যক্তি কোন্ কোন্ পোষাক পরিধান করবে? তিনি বললেন,
لاَ يَلْبَسُ الْقُمُصَ وَلاَ الْعَمَائِمَ وَلاَ السَّرَاوِيلاَتِ وَلاَ الْبَرَانِسَ وَلاَ الْخِفَافَ، إِلاَّ أَحَدٌ لاَ يَجِدُ نَعْلَيْنِ فَلْيَلْبَسْ خُفَّيْنِ، وَلْيَقْطَعْهُمَا أَسْفَلَ مِنَ الْكَعْبَيْنِ، وَلاَ تَلْبَسُوا مِنَ الثِّيَابِ شَيْئًا مَسَّهُ الزَّعْفَرَانُ أَوْ وَرْسٌ
অর্থ : সে জামা, পাগড়ী, পায়জামা, মাথাওয়ালা জামা, মোজা পরিধান করবে না। তবে কারো যদি সেগুলো না থাকে, তাহলে সে টাখনূর নীচ পর্যন্ত মোজা কেটে ফেলে তা পায়ে দিবে। অনুরূপভাবে তোমরা যাফরান এবং ওর্য়াস (এক প্রকার উদ্ভিদ) রঞ্জিত কাপড় পরবে না। (সহীহ আল-বুখারী ও মুসলিম)

৬. প্রাণী শিকার করা: এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন, يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَقْتُلُوا الصَّيْدَ وَأَنْتُمْ حُرُمٌ “হে ঈমানদারগণ! তোমরা ইহরাম অবস্থায় শিকারযোগ্য প্রাণী হত্যা করো না।” (সূরা মায়েদাহ- ৯৫)
আল্লাহ আরো বলেন, وَحُرِّمَ عَلَيْكُمْ صَيْدُ الْبَرِّ مَا دُمْتُمْ حُرُمًا “আর তোমাদের ইহরামকারীদের জন্য স্থলের শিকার হারাম করা হয়েছে, যতক্ষণ তোমরা ইহরাম অবস্থায় থাক।” (সূরা মায়েদাহ- ৯৬)
আল-কুরআনে আরো বর্ণিত হয়েছে, غَيْرَ مُحِلِّي الصَّيْدِ وَأَنْتُمْ حُرُمٌ “কিন্তু ইহরাম অবস্থায় তোমরা শিকারকে হালাল মনে করো না।” (সূরা মায়েদাহ- ১)
তবে যখন হালাল হবে তখন শিকার বৈধ। আল্লাহ বলেন, وَإِذَا حَلَلْتُمْ فَاصْطَادُوا “যখন তোমরা ইহরাম থেকে হালাল হয়ে যাবে, তখন শিকার কর।” (সূরা মায়েদাহ- ২)
উক্ত আয়াতসমূহ প্রমাণ করে, হজ্জ ও উমরার ইহরাম বাধার পর থেকে হালাল হওয়া পর্যন্ত ইহরামকারীর জন্য সকল প্রকার শিকারকে হত্যা হারাম করা হয়েছে।

৭. বিবাহ সম্পন্ন করা এবং বিবাহের প্রস্তাব দেওয়া: রাসূল (সা.) বলেছেন, لاَ يَنْكِحُ الْمُحْرِمُ وَلاَ يُنْكَحُ وَلاَ يَخْطُبُ “মুহরিম ব্যক্তি নিজে যেমন বিয়ে করবে না, তেমনি অন্যকেও বিয়ে দিবে না এবং বিবাহের প্রস্তাবও পেশ করবে না।” (সহীহ মুসলিম)

৮. স্ত্রী সহবাস করা এবং যৌন উত্তেজনার সহিত স্ত্রীকে আলিঙ্গন করা: মহান মহান আল্লাহ বলেন, الْحَجُّ أَشْهُرٌ مَعْلُومَاتٌ فَمَنْ فَرَضَ فِيهِنَّ الْحَجَّ فَلَا رَفَثَ وَلَا فُسُوقَ وَلَا جِدَالَ فِي الْحَجِّ “হজ্জের জন্য নির্দিষ্ট কয়েকটি মাস রয়েছে। এসব মাসে যে ব্যক্তি হজ্জের ইহরাম বাধবে, তার জন্য হজ্জে (স্ত্রী সহবাস করা), অশ্লীল কোন কাজ করা এবং ঝগড়া-বিবাদ করা জায়েয নয়।” (সূরা আল-বাক্বারা- ১৯৭) এ আয়াতে ‘রফাছ’ (رَفَثَ) শব্দটি স্ত্রী সহবাস এবং যৌন উত্তেজনার সহিত স্বামী-স্ত্রীর আলিঙ্গন উভয়কে শামিল করে।

৯. অশ্লীল কথা-কাজে লিপ্ত হওয়া :
আল্লাহ তাআলা বলেন, وَلَا فُسُوقَ وَلَا جِدَالَ فِي الْحَجِّ “অশ্লীল কোন কাজ করা এবং ঝগড়া-বিবাদ করা জায়েয নয়।” (সূরা আল-বাক্বারা- ১৯৭)
এ আয়াতে ‘ফুসূক’ (فُسُوقَ) শব্দটি যাবতীয় পাপাচারকে বুঝায় এবং ‘জিদাল’ (جِدَالَ) দ্বারা অনর্থক এবং হিংসা-বিদ্বেষ মূলক তর্ক-বিতর্ক ও ঝগড়া-বিবাদকে বুঝানো হয়েছে। তবে দ্বীনে হক্বকে বিজয়ী করার উদ্দেশ্যে বিতর্ক করা বৈধ এবং উত্তম। মহান আল্লাহ বলেন, وَجَادِلْهُمْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ “তাদের সাথে উত্তম পন্থায় বিতর্ক করুন।” (সূরা নাহ্ল-১২৫)

হজ্জ ও উমরা পালনকারীর যেসব বৈশিষ্ট্য থাকা উচিৎ :
১. হজ্জ ও উমরা কেবলমাত্র আল্লাহ্র সন্তুষ্টির জন্য হতে হবে; লোক দেখানোর জন্য নয়।
২. হজ্জ ও উমরা আদায়ের উদ্দেশ্যে হাজী সাহেবকে এতদুভয়ের বিধিবিধান জেনে নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে।
৩. হজ্জের সফরে ভাল মানুষদের সাহচর্য লাভের চেষ্টা করতে হবে। রাসূল (সা.) বলেন,
مَثَلُ الْجَلِيسِ الصَّالِحِ وَالسَّوْءِ كَحَامِلِ الْمِسْكِ وَنَافِخِ الْكِيرِ فَحَامِلُ الْمِسْكِ إِمَّا أَنْ يُحْذِيَكَ وَإِمَّا أَنْ تَبْتَاعَ مِنْهُ وَإِمَّا أَنْ تَجِدَ مِنْهُ رِيحًا طَيِّبَةً وَنَافِخُ الْكِيرِ إِمَّا أَنْ يُحْرِقَ ثِيَابَكَ وَإِمَّا أَنْ تَجِدَ رِيحًا خَبِيثَةً
অর্থ : সৎ সঙ্গী এবং অসৎ সঙ্গীর উদাহরণ হচ্ছে আতর বিক্রেতা এবং কামারের মত। আতর বিক্রেতা হয় তোমাকে আতর প্রদান করবে, না হয় তুমি তার কাছ থেকে আতর কিনে নিবে, আর না হয় তুমি অন্ততঃ তার কাছ থেকে সুঘ্রাণ পাবে। পক্ষান্তরে কামার হয় তোমার কাপড় পুড়িয়ে দিবে, আর না হয় তুমি তার কাছ থেকে দুর্গন্ধ পাবে। (সহীহ আল-বুখারী ও মুসলিম)
৪. হজ্জের সফরে প্রয়োজনীয় অর্থ সঙ্গে নিতে হবে, যাতে অন্যের কাছে হাত পাততে না হয়। রাসূল (সা.) বলেন, وَمَنْ يَسْتَعْفِفْ يُعِفَّهُ اللَّهُ وَمَنْ يَسْتَغْنِ يُغْنِهِ اللَّهُ
অর্থ : য ব্যক্তি হারাম এবং অন্যের কাছে হাত পাতা থেকে পবিত্র থাকতে চায়, আল্লাহ তাকে পবিত্র রাখবেন। অনুরূপভাবে যে ব্যক্তি স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে চায়, আল্লাহ তাকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করবেন। (সহীহ আল-বুখারী ও মুসলিম)

৫. উত্তম চরিত্রবান হতে হবে এবং অন্যের সাথে ভাল ব্যবহার করতে হবে। রাসূল (সা.) বলেন,
اتَّقِ اللَّهَ حَيْثُمَا كُنْتَ وَأَتْبِعِ السَّيِّئَةَ الْحَسَنَةَ تَمْحُهَا وَخَالِقِ النَّاسَ بِخُلُقٍ حَسَنٍ
অর্থ : তুমি যেখানেই থাকো না কেন আল্লাহকে ভয় করবে। মন্দ কিছু ঘটে গেলে তারপরে ভাল কাজ করবে, তাহলে এই ভাল কাজ ঐ মন্দ কাজকে নিশ্চিহ্ন করে ফেলবে। আর মানুষের সাথে উত্তম ব্যবহার করবে। (সূনান আত-তিরমিযী ও মুসনাদে আহমদ)
৬. হাজী সাহেব যিক্র-আযকার, দো‘আ ও আল্লাহ্র কাছে ক্ষমা প্রার্থনা ইত্যাদিতে ব্যস্ত থাকবে। মন্দ কথা কাজ থেকে বিরত থাকবে। রাসূল (সা.) বলেন,
مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ فَلْيَقُلْ خَيْرًا أَوْ لِيَصْمُتْ
অর্থ : যে ব্যক্তি আল্লাহ্র প্রতি এবং পরকালের প্রতি ঈমান আনে, সে যেন ভাল কথা বলে অথবা চুপ থাকে। (সহীহ আল-বুখারী ও মুসলিম)
৭. হাজী সাহেব অন্যকে কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকবে। রাসূল (সা.) বলেন,
الْمُسْلِمُ مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ
অর্থ : মুসলিম সে-ই ব্যক্তি, যার মুখ এবং হাতের অনিষ্ট থেকে অন্য মুসলিম নিরাপদে থাকে। (সহীহ আল-বুখারী ও মুসলিম)
জীবনের সর্বক্ষেত্রে উপরোক্ত সুন্দর আদবগুলি বাস্তবায়ন করা উচিৎ। তবে হজ্জ ও উমরার সফরে এগুলির গুরুত্ব আরো বেশী।

পরবর্ত ী অংশের জন্য পার্ট-২ দেখুন:

http://countrynews24.com/article/islam/9089/%E0%A6%B9%E0%A6%9C%E0%A7%8D%E0%A6%9C%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%9F%E0%A7%8B%E0%A6%9C%E0%A6%A8%E0%A7%80%E0%A7%9F-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A6%AE-%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%81%E0%A6%A8-%E0%A6%93-%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%B2-%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%9F-%E0%A7%A8

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


ইসলাম বিভাগের সর্বাধিক পঠিত


১৫ বছরের কম বয়সী যে কেউ যদি টানা ৪০ দিন জামায়াতের সাথে ফজরের নামাজ আদা...

ইসলাম | 2017-10-14 10:37:41

হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল (সা.) এক ব্যক্তিকে...

ইসলাম | 2017-11-16 18:51:55

জীব জন্তু, সবই মহান আল্লাহর সৃষ্টি। মহান আল্লাহ তায়লা যেমনি মানব ও জ্ব...

ইসলাম | 2017-09-29 09:29:06

‘নীল সিয়া আসমান, লালে লাল দুনিয়া/ আম্মাগো লাল তেরি খুন কিয়া খুনিয়া/কাঁ...

ইসলাম | 2017-10-01 09:27:40

হযরত উবাদাতা ইবনে সামিত (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন, তোমরা যদ...

ইসলাম | 2017-10-03 10:59:56

যরত আবু হুরায়রা (রা.) রাসূল (সা.) থেকে বর্ণনা করেন, রাসূল (সা.) বলেছেন...

ইসলাম | 2017-10-12 20:30:54

সৌদি আরবের জেদ্দায় ৭৩টি দেশের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত‘বাদশা আব্দুল আজিজ আল...

ইসলাম | 2017-10-14 21:31:12

ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই দিনটির বিশেষ তাৎপর্য ও গুরুত্ব আমরা অনেকেই জ...

ইসলাম | 2017-11-02 19:34:28